Tour To Rangamati 30/09/2017


রাঙ্গামাটি ভ্রমণ
বাংলাদেশের পুর্ব দিকের একটি জেলা রাঙ্গামাটি। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের বিশাল পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে বিস্তৃত একটি জনপদ। এখানে প্রচুর ছোট, বড়, মাঝারি আঁকাবাঁকা লেক রয়েছে জার জন্য এই জনপদ টি বাংলাদের লেক শহর নামে পরিচিত। এটির উত্তর দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে, দক্ষিণে বান্দরবান জেলা, পুর্বে মিজোরাম রাজ্য এবং মায়ানমার, পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলা অবস্থিত।

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ঋতুর পালা বদলে আসে শীত। শীতকালকে বলা হয় পাহাড় ভ্রমণের আদর্শ সময় তাই শীতকালে রাঙ্গামাটির হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে।

তাই এই শীতে শতশত গাড়ির যান্ত্রিক কোলাহলে ধ্যান ভাঙে গুরুগম্ভীর বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের শহর রাঙামাটির। সারাটা শীত মৌসুম জুড়ে যেন উৎসব লেগে থাকে এই ছোট্ট পাহাড়ী মফস্বল শহরটিতে। ১০টি ভাষাভাষীর ১১টি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক কৃষ্টির সংস্পর্শে আসতে হলে আপনাকে শীত মৌসুমেই আসতে হবে রাঙামাটি। রাঙ্গামাটি বেড়াতে এলে হাতে অন্ততঃ দুই দিন সময় নিয়ে আসবেন। তা না হলে ভ্রমন অপূর্ণ রাখেই ফিরতে হবে যা আপনার জন্য যন্ত্রণাদ্বায়ক হতে পারে।
রাঙ্গামাটি জেলার মোট আয়তন ৬১১৬ কিঃমিঃ, এর মধ্যে ১২৯২ কিলোমিটার ২ টি নদী এবং ৪৮২৫ কিলোমিটার ২ বনজ উদ্ভিদ আছে । মোট জনসংখ্যা হল ৫৯৫,৯৭৯ (২০১১ সালরে আদমশুমার অনুযায়ী ) জনসংখ্যায় বাঙালি এবং এগারো জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত। গোত্রগুলরি মধ্যে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গা, ত্রপিুরা, পাঙ্কুয়া, লুশাই, খিয়াং, মুরং, রাখাইন, চাক, বাঁম, খুমী। বভিন্নি ঘোড়দৌড়, সংস্কৃত,র্ধমই এবং কাস্টমস এর মশ্রিণ রাঙ্গামাটিতে একটি আর্কষণীয় সম্প্রদায় তৈরি করে।

রাঙ্গামাটি পরর্দিশন করার জন্য উপযুক্ত মাস অক্টোবর হতে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কারণ এই মাসে তাপমাত্রা শীতল এবং সাধারণত যে কোন সময় বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিন্তু রাঙ্গামাটির প্রধান সৌর্ন্দয বৃষ্টির মধ্যে কেননা র্বষাকালে র্বষার সময় গ্রীন হ্রাস পায়, নদী ও জলপ্রপাত পানিতে কানায় কানায় ভরে যায় যার সৌর্ন্দয নিজের দৃষ্টিকে হার মানায়।

র্পযটকরা রাঙ্গামাটি নিজের চোখে না দেখলে একটি রঙনি বাংলাদশে মিস করবে।

রাঙামাটির দর্শনীয় স্থান সমূহ

রাঙামাটিতে ভ্রমণ করার জন্য রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে কাপ্তাই লেক, পর্যটন হোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্ণা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

রাঙামাটি শহর ও আশপাশের স্পট

রাঙামাটিতে ঝুলন্ত সেতু, রাজবাড়ি, জেলা প্রশাসকের বাংলো, সুভলং ঝরণা, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ স্মৃতিসৌধ, পেদা টিং টিং, ইকো টুক টুক ভিলেজসহ দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। এগুলো দেখার জন্য সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া নিলে ভালো। বোট পাবেন যেখানে ইঞ্জিনচালিত বোট কিংবা স্পিডবোট ভাড়া পাওয়া যায় রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি বাজারের বোট ঘাট, রিজার্ভ বাজার, বনরূপার সমতা ঘাট ও রাজবাড়ি ঘাট এলাকায়। নতুন লোক দেখলে বোট চালকরা ভাড়া একটু বেশি দাবি করে। তাই দর-দাম করে বোট ভাড়া নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া নিলে এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। দু’তিন ঘণ্টার জন্য এ ভাড়া হতে পারে পাঁচ-ছয়শ’ টাকা।

কিভাবে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি আসবেন
ঢাকা থেকে ইচ্ছে করলে সরাসরি রাঙামাটি আসতে পারেন। অথবা চট্টগ্রাম হয়েও আসা যায়। চট্টগ্রাম থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৭০ কিলোমিটার। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাঙামাটি প্রায় সাড়ে ৩শ কিলোমিটার। উভয় এসি এবং  ননএসি কোচে রাঙ্গামাটি আসতে পারেন ।

যেখানে থাকতে পারেন

একটু নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে চাইলে উঠতে পারেন রাঙামাটি পর্যটন হোটেলে। এখানে সিঙ্গেল রুমের পাশাপাশি ডবল রুমও রয়েছে। প্রতিটি রুমের জন্য ভাড়া হবে এসি ২ হাজার ২শ টাকা আর নন এসি ১৪শ’ টাকা। এ ছাড়া বেসরকারি হোটেলে রাতযাপন করা যায়। এসব হোটেলে সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ৫শ’ থেকে ১২শ টাকা-এসি, নন এসি, ডবল রুম ৯শ’ থেকে ২০০০টাকা। এর বাইরে মাঝারি মানের হোটেলও রয়েছে ।

তবে নতুন দম্পতিদের জন্য স্মরণীয় একটি দিন হবে যদি তারা থাকতে পারেন পর্যটন কমপ্লেক্সের হানিমুন কটেজে। অনন্য শৈলীতে নির্মিত কটেজের একটি রুমের ভাড়া পড়বে এসি ৬ হাজার আর ননএসি ৩ হাজার ২শ টাকা। বিভিন্ন ছুটিরদিনে  পর্যটক বেশি থাকার কারণে আগেভাগেই রুম বুকিং দিলে ভালো। তা না হলে রুম পাওয়া নিয়ে ঝামেলা পডতে পারেন।

You might like




loading

Thanks for choosing Tunemytour

Please wait while we are loading

Get the mobile app!

Our app has all your booking needs covered: Secure payment channels, easy 4-step booking process, and sleek user designs. What more could you ask for?
ios
android